/story/225876/জন-ব-প-ন-ক-ভট-ট-চ-র-য-র-অপ-র-শন-ম-য-নহ-টন-র-ইডক-ঘ-র-ছড়-ন-ষড়যন-ত-র-তত-ত-ব-র-জব-ব/toc
জনাব পিনাকি ভট্টাচার্যের অপারেশন ম্যানহাটন রেইডকে ঘিরে ছড়ানো ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জবাব | Penana
arrow_back
জনাব পিনাকি ভট্টাচার্যের অপারেশন ম্যানহাটন রেইডকে ঘিরে ছড়ানো ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জবাব
more_vert share bookmark_border file_download
info_outline
format_color_text
toc
exposure_plus_1
Search stories, writers or societies
Continue ReadingClear All
What Others Are ReadingRefresh
X
Never miss what's happening on Penana!
G
জনাব পিনাকি ভট্টাচার্যের অপারেশন ম্যানহাটন রেইডকে ঘিরে ছড়ানো ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জবাব
মুনশি আব্দুর রহমান
Intro Table of Contents Comments (0)

২০০১ সালের ১১ সে(প্টম্বরের (৯/১.১) হ|মল|কে কেন্দ্র করে সারা বিশ্বে যে নানা ধরনের ষড়য/ন্ত্র তত্ত্ব ডালপালা মেলেছে, আমি যদি খুব খেয়াল করে দেখি, তবে বুঝতে পারব এর পেছনে কাজ করেছে এক ধরনের সুনির্দিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক হীনম্মন্যতা। সেদিনের সেই অপ|(রশনটি ছিল অত্যন্ত নিখুঁত, দুঃসাহসিক এবং অভিনব। পশ্চিম| মিডিয়ার প্রভাবে মানসিকভাবে পরাজিত এবং অবদমিত হয়ে থাকা অনেক সংশয়বাদীর পক্ষে এই চ/রম বাস্তবতাটা বিশ্বাস করা এককথায় অসম্ভব ছিল। তারা মূলত একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক রোগে ভুগছিলেন - তারা কিছুতেই মানতে পারছিলেন না যে, মুসলমানদের এমন কোনো বৈজ্ঞানিক বা সাংগঠনিক সক্ষমতা থাকতে পারে।
যেমন ধরুন, পাড়ার সবচেয়ে দুর্বল ছেলেটি যদি কোনোদিন তার মেধা ও সাহসের জোরে সবচেয়ে শক্তিশালী পালোয়ানকে কুপোকাত করে দেয়, তখন চারপাশের মানুষ ঘটনাটি মেনে নিতে না পেরে বলতে শুরু করে - 'নিশ্চয়ই এর পেছনে অন্য কোনো বড় হাত আছে।' নাইন-ই(লভেনের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই ঘটেছিল।
সত্যি বলতে, ছড়িয়ে পড়া এই ষড়য/ন্ত্র তত্ত্বগুলো হলো ম|র্কিন প্রশাসন ও জ|য়/নবাদী মিডিয়ার একটি সচেতন রাজনৈতিক চাল। এর মূল উদ্দেশ্যই ছিল সাধারণ মানুষকে অন্ধকারে রাখা। এই ধরনের কৌশল যে বাস্তবে ঘটে, তার খুব চমৎকার একটা প্রমাণ হলো 'এরিয়া ৫১'। সিআ/ইএ (ClA) নিজেই সেখানে এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণীদের নিয়ে নানা মুখরোচক কাহিনি প্রচার হতে দিয়েছিল, যাতে তাদের গো/পন স|মরিক গবেষণাগুলোর দিক থেকে মানুষের নজর সরে যায়। ঠিক একইভাবে, নিজেদের চ/রম ব্যর্থতা ঢাকতে ম|র্কিন প্রশাসন ও মিডিয়া সুকৌশলে ৯/১.১ নিয়ে এই ষড়য/ন্ত্র তত্ত্বগুলোকে ডালপালা মেলার সুযোগ করে দিয়েছে।
এই হ|মল|র পেছনে যে আল-ক|*(য়দ|র মতো একটি সং/গঠন সফলভাবে কাজ করেছে, এই ধ্রুব সত্যটি আ(মরিকার নজিরবিহীন স|মরিক, গো(য়ন্দা ও অভ্যন্তরীণ নির|পত্তা ব্যবস্থার চ/রম ভঙ্গুরতাকে গোটা বিশ্বের সামনে একেবারে নগ্ন করে দিয়েছিল। বিশ্বের মানুষের মনোযোগ ম|র্কিন সরকারের এই লজ্জাজনক ব্যর্থতা ও অযোগ্যতা থেকে সরিয়ে নিতেই সুকৌশলে বিভিন্ন মুখরোচক তত্ত্বকে সমাজে ছড়াতে দেওয়া হয়েছে। ইসর|*(য়লি গো(য়ন্দা সংস্থা মো/সাদ এই কাজ করেছে, কিংবা এটা ম|র্কিন সরকারেরই 'ইনস|ইড জব' - এমন সব আলাপ মূলত এভাবেই বিস্তার লাভ করেছে।
এই মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক প্রচারণার কারণে যে সংশয়গুলোর জন্ম হয়েছে, আসুন একে একে দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে সেগুলো খণ্ডন করা যাক।
পিনাকি ভট্টাচার্যের ষড়য/ন্ত্র তত্ত্বের সংযোগ
মূলত এই মনস্তাত্ত্বিক হীনম্মন্যতা ও রাজনৈতিক প্রচারণার সমান্তরালেই পিনাকি ভট্টাচার্যের ভিডিওতে আলোচিত ষড়য/ন্ত্র তত্ত্বগুলো গড়ে উঠেছে। তাঁর আলোচনায় আমরা দেখেছি ডোন|ল্ড ট্র|ম্পের স্থাপত্য প্রকৌশল সংক্রান্ত সংশয়, ভবনের ভেতরে বে|মা থাকার দাবি, কিংবা ঘটনার দিন ৪,০০০ ই/হু/দির অফিসে না যাওয়ার মতো বিষয়গুলো। পাশাপাশি মো/সাদ বা ম|র্কিন প্রশাসনের 'ইনস|ইড জব' বা 'গ্রিন লাইট' (মৌন সম্মতি) দেওয়ার তত্ত্বগুলোও তিনি তুলে এনেছেন। এই সংশয়গুলো শুনতে আপাতদৃষ্টিতে খুব যৌক্তিক মনে হলেও, আল-ম|সরি অত্যন্ত চমৎকারভাবে দেখিয়েছেন যে, এগুলো মূলত ম|র্কিন নির|পত্তা ব্যবস্থার চ/রম ব্যর্থতা আড়াল করারই একটি নিখুঁত কৌশল। পাশাপাশি মুসলমানদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাকে অস্বীকার করার যে মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা, এটি তারই একটি বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
মজার ব্যাপার হলো, পিনাকি ভট্টাচার্যের এ ধরনের মনগড়া তত্ত্ব ছড়ানোর অভ্যাস কিন্তু এবারই প্রথম নয়। এই তো সেদিনের কথা, জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের শুরুর দিকেও তিনি এটাকে ভ|রতের এ(জন্ডা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অর্থাৎ, যখনই কোনো ঘটনা তার চেনা ছকে মেলে না, তখনই তিনি এমন সব মুখরোচক ষড়য/ন্ত্র তত্ত্বের জন্ম দেন, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে।
পিনাকি ভট্টাচার্য তাঁর ভিডিওতে একটি কথা দাবি করেছেন - তিনি নাকি কোনো তত্ত্ব দিচ্ছেন না বা ষড়য/ন্ত্রের কথাও বলছেন না, বরং তিনি শুধু 'তথ্যগুলোকে পাশাপাশি রাখছেন'। আমি মনে করি, তাঁর এই দাবিটিই আসলে এ ধরনের কনটেন্টের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক। কারণ, আপনি যখন কিছু নির্দিষ্ট তথ্য বেছে নিচ্ছেন, কিছু প্রসঙ্গ ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দিচ্ছেন এবং সেগুলোকে এমনভাবে সাজাচ্ছেন যাতে একটি বিশেষ 'প্যাটার্ন' বা ছকের বিভ্রম তৈরি হয়, সেই সাজানোর প্রক্রিয়াটাই মূলত একটি যুক্তি, একটি নতুন বয়ান। ফলে, 'শুধু তথ্য দিচ্ছি' বলাটা একটা বাগ্মিতার কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। এই কৌশল সুকৌশলে শ্রোতাকে মূল ঘটনা নিয়ে সমালোচনামূলক প্রশ্ন তোলা থেকে বিরত রাখে।
এই আলোচনায় আমরা ভিডিওতে তোলা প্রতিটি নির্দিষ্ট দাবি আলাদাভাবে যাচাই করব। এই যাচাইয়ের কাজে আমরা সাহায্য নেব এনআইএসটি (NIST)-এর প্রকৌশল তদন্ত রিপোর্ট, এফবি/আ/ই (FBl)-এর তদন্ত নথি, ৯/১.১ কমিশন রিপোর্ট এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খোদ আল-ক|*(য়দ|র নিজস্ব প্রকাশনা থেকে আমরা প্রমাণ তুলে ধরব। আমার লক্ষ্য একটাই - প্রতিটি 'অস্বস্তিকর প্রশ্নের' পেছনের আসল প্রসঙ্গটি ফিরিয়ে আনা। কারণ, প্রসঙ্গটি সামনে এলেই আপনারা দেখতে পাবেন, আলোচিত সেই ছকটি আসলে কোনোভাবেই ধোপে টেকে না।
-
দাবি ১: টুইন টাও/য়ারের ধুলোয় পরিণত হওয়া ও নিয়/ন্ত্রিত বি(স্ফ|রণ দাবির বয়ান
এই তত্ত্বে অভিযোগ করা হয় যে, ইস্পাত ছাড়া কংক্রিট, ডেস্ক, কম্পিউটারসহ ভবনের প্রায় সবকিছুই সূক্ষ্ম ধূলিকণায় পরিণত হয়েছিল, যা নাকি কোনো নিয়/ন্ত্রিত বি(স্ফ|রণেরই বৈশিষ্ট্য। এখানে ডোন|ল্ড ট্র|ম্পের একটি মন্তব্য টেনে এনে বলা হয় যে, শুধু বিম|ন দিয়ে এত মজবুত ইস্পাত কাঠামো ভেদ করা কিছুতেই সম্ভব নয়, তাই ভেতরে নিশ্চয়ই বে|মা রাখা ছিল।
বাস্তবতা ও দালিলিক প্রমাণ 
প্রথমেই বলে রাখি, ডোন|ল্ড ট্র|ম্প মূলত একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী; তিনি কোনো স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার বা প্রকৌশলী নন। ঘটনার দিনই ফোনে দেওয়া তাঁর মন্তব্যটি ছিল একজন সাধারণ দর্শকের তাৎক্ষণিক অনুমান মাত্র। এর পেছনে কোনো বিশেষ প্রমাণ বা তদন্তভিত্তিক জ্ঞান ছিল না। 'পলিটিফ্যাক্ট' (PolitiFact)-এর ফ্যাক্ট-চেক স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে যে, তাঁর এই মন্তব্যকে 'ইনস|ইড জব'-এর প্রমাণ হিসেবে দেখানো একেবারেই ভিত্তিহীন একটি কাজ।
এর প্রকৌশলগত ব্যাখ্যাটা আসলে বেশ সরল। বিম|নের প্রচণ্ড আঘ|তে প্রথমেই ভবনের ফ|য়ারপ্রুফিং ব্যবস্থা খসে পড়ে। এরপর হাজার হাজার গ্যালন জেট ফু(য়ল ও অফিসের নানা দাহ্য জিনিসপত্রের আ/গুনে ইস্পাতের কাঠামো তার শক্তির একটি বড় অংশ হারিয়ে ফেলে।
যেমন ধরুন, একটি প্লাস্টিকের স্কেলকে গলানোর প্রয়োজন নেই, চুলার আ/গুনের একটু কাছাকাছি ধরলেই সেটি নরম হয়ে বেঁকে যায়। ইস্পাতের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটে। কাঠামো ভেঙে পড়ার জন্য ইস্পাতকে পুরোপুরি গলার প্রয়োজন হয় না।
প্রায় ৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেই ইস্পাত যথেষ্ট দুর্বল হয়ে পড়ে। একবার যখন একটি ফ্লোর ধ/সে পড়ে, তখন তার ওপর জমে থাকা লক্ষ লক্ষ টন ওজনের ভর একেবারে সজোরে নিচের ফ্লোরগুলোর ওপর আছড়ে পড়ে। মূলত এই 'প্যানকেক কো/লাপ্স' (একটার ওপর আরেকটা তলা ধ/সে পড়া) প্রক্রিয়াতেই বিপুল গতিতে ধ্বং/সস্তূপ একে অপরের সাথে সং/ঘর্ষে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে সূক্ষ্ম ধুলায় পরিণত হয়। এর জন্য আলাদা করে কোনো বি(স্ফ|রকের প্রয়োজন নেই, কারণ এটি মহাকর্ষ ও ভরের অতি সাধারণ পদার্থবিজ্ঞান।
এর বিপরীতে, প্রকৃত কোনো নিয়/ন্ত্রিত ধ্বং/সে সুনির্দিষ্ট বি(স্ফ|রণের শব্দ-প্যাটার্ন থাকে, তারের নেটওয়ার্ক বিছানো থাকে এবং সপ্তাহব্যাপী প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। ৯/১.১-এর তদন্তে এমন কোনো প্রমাণই পাওয়া যায়নি।
চলবে ইনশা আল্লাহ...

Show Comments
BOOKMARK
Total Reading Time: 1 minute
toc Table of Contents
No tags yet.
bookmark_border Bookmark Start Reading >
×


Reset to default

X
×
×

Install this webapp for easier offline reading: tap and then Add to home screen.