-
info_outline Info
-
toc Table of Contents
-
share Share
-
format_color_text Display Settings
-
exposure_plus_1 Recommend
-
Sponsor
-
report_problem Report
-
account_circle Login
সোমালি গবেষক ও বিশ্লেষক গুলেদ আহমেদ রাজধানী মোগাদিশুর নির|পত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের একটি গুরু/তর ব্যর্থতার ওপর আলোকপাত করেছেন। প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদের শাসনামলে সোমালিয়ার ফেডারেল সরকার বারবার জোর দিয়ে যে বয়ানটি প্রচার করে আসছে যে, রাজধানী এখন "যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নিরাপদ"—তিনি মূলত তারই কঠোর সমালোচনা করেছেন। গুলেদ আহমেদের মতে, সরকারের এই বয়ানটি মূলত গণ-বি(স্ফ|রণ কমে আসা এবং বেসামরিক প্র|ণহানি হ্রাসের মতো কিছু বাহ্যিক ও ভাসা-ভাসা সূচকের ওপরই নির্ভরশীল। অথচ, এর আড়ালে হার|ক|তুশ শ|*ব|ব আল-মু/জ|হিদিনের রণকৌশলে যে এক গভীর ও সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, তা এখানে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে গুলেদ আহমেদ বলেন যে, নির|পত্তাব্যবস্থার উন্নতি তিনি মোটেই অস্বীকার করছেন না। সিসিটিভি ক্যামেরার বিস্তার, চেকপোস্টের পরিধি বৃদ্ধি এবং সেইসঙ্গে প্রশিক্ষিত নির|পত্তা ব|হিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর মতো বাস্তব পদক্ষেপগুলো সত্যিই গ্রহণ করা হয়েছে। তবে তাঁর মতে, রাজধানীর নির|পত্তা নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের সফলতা প্রমাণের জন্য কেবল এসব পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়। কেননা, দৃশ্যমান সহিং/সতার মাত্রা কমে যাওয়ার মানে এই নয় যে, হার|ক|তুশ শ|*ব|ব আল-মু/জ|হিদিনের প্রভাব-প্রতিপত্তিও হ্রাস পেয়েছে।
এই গবেষক ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত তাঁর নিজস্ব একটি গবেষণাপত্রের সূত্র টেনে জানিয়েছেন যে, হার|ক|তুশ শ|*ব|ব আল-মু/জ|হিদিন পরাজিত হওয়ার বদলে মূলত নিজেদের কর্মপদ্ধতিতেই পরিবর্তন এনেছে। তারা এলোপ|তাড়ি হ|ম/লার পথ থেকে সরে এসে এখন অনেক বেশি নীরব, অথচ টেকসই প্রভাব বিস্তারের দিকে মনোনিবেশ করেছে। তাদের এই নতুন কৌশলের মূল ভিত্তি হলো—নির|পত্তা ও গো(য়ন্দা সংস্থাগুলোতে সুকৌশলে অনুপ্রবেশ, কর ও চাঁদা আরোপ এবং সুনির্দিষ্টভাবে কেবল সরকারি ব|হিনীর ওপরই হ|ম/লা পরিচালনা করা। এর পাশাপাশি খোদ রাজধানীর ভেতরে তারা নিজেদের শক্তিশালী আর্থিক ও গো(য়ন্দা নেটওয়ার্কটি অটুট রেখেছে। গুলেদ আহমেদের মতে, কৌশলগত এই পরিবর্তনের কারণে শহরটিকে বাইরে থেকে অনেকটা শান্ত মনে হলেও, প্রকৃত কৌশলগত দিক দিয়ে এটি মোটেই নিরাপদ হয়ে ওঠেনি।
গুলেদ আহমেদ অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, সরকারের সবচেয়ে বড় ভুলটি ঠিক এখানেই যে, তারা (ব|মা হ|ম/লা কিংবা বেসামরিক প্র|ণহানির সংখ্যাকেই নির|পত্তা-সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি হিসেবে ধরে নিয়েছে। অথচ এখানে প্রকৃত প্রশ্ন হওয়া উচিত ছিল: আ(ন্দ|লনকারীরা এখন ঠিক কাকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে? এবং কীভাবে তারা নিজেদের প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা এখনো ধরে রাখছে? তিনি বলেন, সহিং/সতা আসলে কমে যায়নি, বরং এর একটি পুনর্বিন্যাস ঘটেছে মাত্র। এলোপ|তাড়ি হ|ম/লার মাত্রা কমে এলেও নির|পত্তা ব|হিনী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপের মাত্রা আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। এটি মূলত হার|ক|তুশ শ|*ব|ব আল-মু/জ|হিদিনের এক অনন্য কৌশলগত অভিযোজন, কোনোভাবেই তাদের পতন বা ভাঙন নয়।
লেখক আরও উল্লেখ করেন যে, ইউ(র|পীয় ইউনিয়ন অ্যাসাইলাম এ(জন্সির (EUAA) দেওয়া একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদনও পরবর্তীতে স্বাধীনভাবে তাঁর এই দাবিকে সমর্থন জুগিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের মার্চের মাঝামাঝি সময়ে বানাদির অঞ্চলে দৃশ্যত সহিং/সতার মাত্রা আপেক্ষিকভাবে কম ছিল ঠিকই; কিন্তু এ সময়ে হার|ক|তুশ শ|*ব|ব আল-মু/জ|হিদিনের বেশিরভাগ হ|ম/লাই বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে খোদ সরকারি ব|হিনীকে। প্রতিবেদনটি আরও নিশ্চিত করেছে যে, মোগাদিশুর অভ্যন্তরে আ(ন্দ|লনকারীদের বিস্তৃত গো(য়ন্দা ও কর আদায়ের নেটওয়ার্ক এখনো পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে। ভয়ভী/তি প্রদর্শন ও চাঁ/দাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতাও তারা অক্ষুণ্ন রেখেছে। উপরন্তু, ২০২৫ সালের এক অভিযানের সময় তারা অগ্রসর হতে হতে রাজধানীর মাত্র ৫০ কিলোমিটারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।
সরকারের প্রতি গুলেদ আহমেদের অন্যতম প্রধান সমালোচনাটি হলো—সরকার মূলত সহিং/সতা নিয়ন্ত্রণ করা এবং হার|ক|তুশ শ|*ব|ব আল-মু/জ|হিদিনের প্রভাব নির্মূল করার বিষয় দুটিকে একসাথে গুলিয়ে ফেলেছে। হাজার হাজার সৈন্য, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং অসংখ্য চেকপোস্ট হয়তো এলোপ|তাড়ি হ|ম/লাকে কিছুটা সীমিত করতে পারে। কিন্তু গো(য়ন্দাবৃত্তি, অর্থায়ন এবং চাঁ/দাবাজির জালের মধ্য দিয়ে শহরের ভেতরে আ(ন্দ|লনকারীরা যে অদৃশ্য প্রভাব টিকিয়ে রেখেছে, তা এসব বাহ্যিক উপায় দিয়ে ঠেকানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
এই গবেষক ২০২১ সালে তা(লবানের হাতে পতনের ঠিক আগে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের উদাহরণটি টেনে আনেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকারের পতনের আগে তা(লবানরা সামরিকভাবে শহরটি নিয়ন্ত্রণ করত না ঠিকই, তবে বছরের পর বছর ধরে তারা সেখানে গো(য়ন্দাগিরি, অর্থায়ন এবং প্রভাব বিস্তারের এক অতি শক্তিশালী ছায়ানেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল, যা পরবর্তীকালে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ও পতনের পথকে সুগম করেছিল। তিনি অবশ্য এ কথাও স্পষ্ট করেন যে, এই তুলনার মানে এমন নয় যে মোগাদিশুর পতনও অবিকল একই ক|*য়দায় ঘটবে। বরং এর মূল উদ্দেশ্য হলো সেই "অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ"-এর লক্ষণগুলোকে উপেক্ষা করার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা, যা মূলত যেকোনো রাজনৈতিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণের পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে থাকে।
গুলেদ আহমেদ তাঁর আলোচনার উপসংহারে বলেন, হার|ক|তুশ শ|*ব|ব আল-মু/জ|হিদিন এখন আর যতটা সম্ভব বেশি প্র|ণহানি ঘটানোর চেষ্টা করে না, বরং তাদের বর্তমান লক্ষ্যই হলো সর্বোচ্চ পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব প্রতিষ্ঠা করা। তাঁর মতে, কেবল নিহ/তের সংখ্যা কমে যাওয়ার দিকে মনোযোগ দিলে নীতিনির্ধারকরা হয়তো স্থিতিশীলতার একটি মিথ্যা সান্ত্বনা পেতে পারেন। কিন্তু বাস্তবচিত্রটি হলো—আ(ন্দ|লনকারীরা অত্যন্ত নীরবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অধিকতর কার্যকর উপায়ে রাষ্ট্র ও সমাজের নানা স্তরে নিজেদের উপস্থিতি ক্রমশ জোরালো করে চলেছে।
---------------
সতর্কবার্তা: এই লেখাটি মূলত আপনাদের তথ্যগত অবগতির উদ্দেশ্যে অনুবাদ করা হলো। সুতরাং, এখানে প্রদত্ত বিষয়গুলোকে চূড়ান্ত বা অকাট্য প্রমাণ হিসেবে ধরে না নেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। উল্লেখ্য, রচনায় উপস্থাপিত যাবতীয় চিন্তাধারা ও বক্তব্যের দায়ভার একান্তই মূল লেখকের নিজস্ব। তাঁর সকল মতাদর্শ বা বিশ্লেষণের সাথে আমাদের পুরোপুরি মতৈক্য থাকতে হবে—এমনটি কোনোভাবেই অপরিহার্য নয়। তাদের চিন্তাধারা আমাদের জানা দরকার, আর মূলত এ কারণেই আমাদের এই আর্টিকেল অনুবাদ করা হয়েছে।
0 sponsors' commentsAfter each update request, the author will receive a notification!
smartphone100
→ Request update
Thank you for supporting the story! :)
Please Login first.
Reading Theme:
Font Size:
Line Spacing:
Paragraph Spacing:
Load the next issue automatically
Reset to default

